প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক >

কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া নিয়ে ফের সরব মুখ্যমন্ত্রী ওমর

article-img

ভারতীয় সংবিধানের বিশেষ মর্যাদা বাতিল এবং জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফের সরব হলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। 

তার দাবি, ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল না করলে এবং রাজ্যের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখলে আজ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবিতে সরব হতেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) শ্রীনগরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে এ কথা বলেন ওমর। 

তার বক্তব্যে একই সঙ্গে উঠে এসেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং সেখানকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি।

ওমর বলেন, সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি দেখে তার মনে হচ্ছে, কাশ্মীরের পূর্বপুরুষেরা যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তা যথার্থ ছিল। তার কথায়, ‘হামলাবার খবরদার, হাম কাশ্মীরি হ্যায় তৈয়ার’ কথাটি আজও প্রাসঙ্গিক।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওমর বলেন, সেখানকার মানুষের অবস্থা তাকে ব্যথিত করছে। গণতান্ত্রিক অধিকার এবং নিজেদের দাবির পক্ষে কথা বলতে গিয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন এবং বহু মানুষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

এর পরই ২০১৯ সালের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তোলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, বিশেষ মর্যাদা বাতিল এবং রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পরিবর্তে যদি আগের ব্যবস্থা বজায় রাখা হত, তা হলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। 

তার দৃঢ় বিশ্বাস, সে ক্ষেত্রে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষই জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে ফের যুক্ত হওয়ার দাবি তুলতেন। 

ওমর আরও বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জন্য নির্দিষ্ট আসন এখনও ফাঁকা রাখা হয়েছে। একদিন সেই আসন পূরণ হবে বলে তারা আশা করেন। 

তার বক্তব্যে স্পষ্ট, জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সম্পর্কের প্রশ্নটি তিনি এখনও রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন।

২০১৯ সালের ৫ অগস্ট কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করে। একই সঙ্গে রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়। দীর্ঘদিনের রাজ্যের মর্যাদা হারায় জম্মু ও কাশ্মীর। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই উপত্যকার রাজনীতিতে এ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। 

স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে ওমরের এই মন্তব্য সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। 


আরো খবর